অর্থনৈতিক আকর্ষণে বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে ঢাকার স্থান ৪৮২

শেনজেন শহরকে বলা হয় চীনের সিলিকন ভ্যালি। এক সময়ের মৎস্য গ্রাম থেকে এটি আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল মেট্রোপলিটন শহর। এখানে পরিকল্পিত বিনিয়োগের জন্য রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

শেনজেন শহরকে বলা হয় চীনের সিলিকন ভ্যালি। এক সময়ের মৎস্য গ্রাম থেকে এটি আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল মেট্রোপলিটন শহর। এখানে পরিকল্পিত বিনিয়োগের জন্য রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এছাড়া শহরটি বর্তমানে উচ্চপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের একটি কেন্দ্র। এ শহরের জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা অনেক দেশের অর্থনীতির চেয়েও বড়।

মানবসম্পদের গুণগত মানও এ শহরে অত্যন্ত উচ্চ। কারণ এখানে আছে অনেকগুলো বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও বিপুল তরুণ কর্মশক্তি। পরিবেশ রক্ষায় শহরটি সবুজ নগরায়ণ, বৈদ্যুতিক বাস ও স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালু করেছে। সুশাসনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করছে। সব মিলিয়ে চীনের শেনজেন এখন বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় ও উচ্চ জীবনমানের শহরগুলোর মধ্যে উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক আকর্ষণে বিশ্বের সমৃদ্ধ শহরগুলোর জন্য উদাহরণ বিবেচিত হলেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণা অনুযায়ী বিশ্বের এক হাজার শহরের মধ্যে চীনের শেনজেনের অবস্থান ১৩৪। একই ইনডেক্স বা সূচকে ভারতের দিল্লির অবস্থান ২৭৩। আর বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান ৪৮২। গত মে মাসে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস: গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স ২০২৫ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকার এ অবস্থান উঠে এসেছে।

গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরগুলোর অর্থনীতির আকর্ষণীয়তার একটি সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করে। এটা করা হয় বিভিন্ন পরিমাপযোগ্য সূচকের মাধ্যমে, যা বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনমান, পরিবেশ ও শাসন ব্যবস্থা—এ পাঁচ সূচকে একটি শহরের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনীতিতে বাংলাদেশের র‍্যাংকিং ১০০০ শহরের মধ্যে ৩০৬। মানবসম্পদে ১৭৪, জীবনমানে ৭০২, পরিবেশে ঢাকার স্থান ৯১৪ ও শাসন ব্যবস্থায় ৮৭৩।

গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সূচকের জন্য সংশ্লিষ্ট শহরের তথ্য সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্কোর ধরা হয়েছে ১০০। এর মধ্যে অর্থনীতি সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর ৩০, মানবসম্পদে ২৫, জীবনমানে ২৫, পরিবেশে ১০ ও শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্কোর ১০। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তাদের র‍্যাংকিংয়ে থাকা শীর্ষ ১০০টি শহরের স্কোর প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ না থাকায় মোট স্কোর জানা যায়নি। কিছু শহর সর্বোচ্চ ১০০ নম্বরও পেয়েছে, যেমন নিউইয়র্ক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি শহরের জন্য একটি সামগ্রিক স্কোর কেবল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সই নয়; বরং ওই শহরের শিক্ষা, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান, জলবায়ু ঝুঁকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আরো অনেক বিষয়কে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ক্যাটাগরিতে প্রতিটি শহরের অর্থনীতির আকার, কাঠামো ও প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়েছে। যেখানে অতীতের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দুটিই আমলে নেয়া হয়। মানবসম্পদ সূচকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে শহরের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং জনমিতিক প্রবণতা। জীবনমান সূচকে বসবাসের সুবিধা ও নাগরিকদের সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। যেখানে অন্তর্ভুক্ত আছে আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ছাড়াও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা।

পরিবেশ সূচকে জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শহরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত—তা দেখা হয়েছে শাসন ব্যবস্থা সূচকে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদন বিষয়ে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিবেশের সমস্যা তো পরিষ্কার বোঝা যায়, আমাদের এখানে বায়ুদূষণ অনেক বেশি। গভর্ন্যান্স নিয়ে আমি যেটা বুঝি সেটি হচ্ছে, গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের এখানে নির্বাচিত কোনো সরকার নেই। এটা একটা ব্যাপার। আমরা এখনো পরিস্থিতির উন্নতিতে চেষ্টা করছি। জীবনমানের কথা যদি বলি, ঢাকাতে এটি কখনই ভালো অবস্থানে নেই। অপরাধের মাত্রা পরিবর্তন হয়নি, তবে আমি জানি না তারা (অক্সফোর্ড ইকোনমিকস) এখানে কীভাবে পরিমাপ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে ঢাকায় আয়বৈষম্যের যে কথা বলা হয়েছে তা খুবই সঠিক। সব মিলিয়ে এ প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে এমনটা হওয়ার কথাই ছিল। কারণ এসব সমস্যা আমাদের আছে। তবে অর্থনীতিতে যে বৈষম্য সেটি দূর করার সুযোগ আমাদের হাতে রয়েছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণসহ পরিবেশগত সমস্যা সমাধানেরও সুযোগ আছে। এগুলো যত দ্রুত সম্ভব করা উচিত। সুতরাং আমাদের পাবলিক পলিসিতে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স ২০২৫-এ বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশের এক হাজার শহর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ অন্তর্ভুক্ত থাকা বাংলাদেশের অন্য শহরগুলো স্কোর অনুযায়ী—রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও বগুড়া। তবে শুধু ঢাকা শহরকে ‘ডেভেলপিং মেগাসিটিজ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরির শহর উন্নয়নশীল বিশ্বের অত্যন্ত বৃহৎ নগর অঞ্চল। যেখানে জনসংখ্যা এক কোটির বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব শহরে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ প্রায়ই পিছিয়ে পড়ে এবং মাথাপিছু আয়ের হার তুলনামূলকভাবে কম। এ তালিকায় ঢাকার পাশাপাশি রয়েছে কায়রো, লাহোর, ম্যানিলা, লাগোস ও জাকার্তার মতো শহর।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখানে তীব্র। নদীভাঙন, পানির স্বল্পতা, কৃষির পরিবর্তনসহ নানা কারণেই বাস্তুচ্যুত মানুষ ঢাকায় এসে জড়ো হয়। ফলে ঢাকার বাজারে ভোক্তার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই এখানে যেকোনো ব্যবসা দিলেই কোনো রকমে টিকে থাকা যায়। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় জড়ো হওয়ার কারণে শহরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের ঘাটতিতে অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় শহর হিসেবে ঢাকা ভালো অবস্থানে উঠে আসতে পারছে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিকল্পনা ও অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঢাকা যে অর্থনীতির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে, এটা অপরিকল্পিত নগর দর্শনের কারণে। আমাদের পলিসি মেকারদের কাছে ঢাকার কোনো দর্শন নেই। বিকেন্দ্রীকরণ আশা করাও দুরূহ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতির দিক থেকে ঢাকার পরিস্থিতি উন্নত করতে হলে এখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানুষ যেন ঢাকায় আসতে আগ্রহী না হয় রাষ্ট্রকে এমন পলিসি নিতে হবে। বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন, জেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে এর সমাধান করতে পারলেই ঢাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হবে। কিন্তু রাষ্ট্র সেটা করছে না। সরকার এখনো সব অবকাঠামো করে যাচ্ছে ঢাকাকেন্দ্রিক। ভবিষ্যৎ সব পরিকল্পনাও ঢাকাকে ঘিরে। তার মানে আগামী দিনে এ শহরের বাসযোগ্যতা আরো চরম খারাপের দিকে যাবে। একইভাবে এর বাণিজ্যিক পরিস্থিতিও খারাপ হতে থাকবে।’

ঢাকার অর্থনৈতিক ও ব্যবসার পরিবেশ বিশ্বে বিভিন্ন শহরের তুলনায় পিছিয়ে আছে এমন তথ্যের সঙ্গে একমত নন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ইনডেক্স করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সেকেন্ডারি ডাটা ও মিডিয়া রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিত্র উঠে আসে না। ঢাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। এটা ঘরে বসেই করা যায়। আবার অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা করতে চাইলে লাইসেন্সও লাগে না। লাখ লাখ হকার ঢাকায় ব্যবসা করছে। ঢাকার ভেতর গার্মেন্টসও করা যাচ্ছে। যদিও এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ছোট-বড় ব্যবসা করার জন্য মানুষ প্রথমে ঢাকায় আসে, ঢাকার কথা ভাবে। এটার কারণ হলো ঢাকায় ব্যবসার পরিস্থিতি খুবই সহজ। আমাদের ট্যাক্স সিস্টেমও সহজ। ঢাকার পরিস্থিতি এক জায়গায় খারাপ, সেটা হলো যানজট। এদিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। আর সব দিক থেকে ঢাকা ব্যবসাবান্ধব একটি নগর। ইনডেক্সের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে ঢাকার ব্যবসা পরিস্থিতি অন্য অনেক ভালো শহর থেকে এগিয়ে।’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে আরো অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, এটি রাতারাতি দেখা যাওয়ার বিষয় না। শহরের যানজট, বায়ুদূষণ বা শব্দদূষণ দৃশ্যমান। কিন্তু আমাদের কোনো শহরে এসব পরিস্থিতি উন্নতির কোনো প্রতিবেদন নেই। ফলে আন্তর্জাতিক সূচকে আমাদের পিছিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। এছাড়া সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে অনেক কাজে ধীরগতি দেখা যায়। পরিবেশসহ শহরের ব্যবস্থাপনার অন্য সব ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অনেক রিপোর্ট দেখলাম। সব রিপোর্টে আমরা এসব সমস্যা দেখতে পাই। ঢাকা বা অন্য শহরে পরিবেশ বা অন্য কোনো সূচকে বলার মতো কোনো উন্নতি নেই। মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূচকে ১ বা ২ পয়েন্ট উন্নতি হয়, সেটি বিশ্বের অন্য কোনো শহর পিছিয়ে যাওয়ার কারণে হয়। আমরা উন্নতি করছি এমনটা খুব একটা ঘটে না। আর প্রতিটি ক্রাইটেরিয়া একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত। জনসংখ্যা ও দক্ষ জনশক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রম যুক্ত। নাগরিক সেবা, পরিকল্পিত অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুশাসনের যে ঘাটতি রয়েছে তা উন্নতি করতে হলে যে ধরনের কার্যক্রম দরকার সেটি আমাদের এখানে হচ্ছে না।’

ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, প্রতিবেদনে মানবসম্পদে ঢাকার অবস্থান তুলনামূলক উন্নত দেখানো হয়েছে। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি আমাদের কম। শ্রীলংকা বাংলাদেশের চেয়ে কম জনশক্তি রফতানি করে তিন-চার গুণ বেশি রেমিট্যান্স আয় করে। কর্মক্ষম মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্র কিছু করছে না। এ অদক্ষ জনশক্তির মধ্যে গ্র্যাজুয়েটরাও রয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের যদি অর্থ না থাকে তাহলে সে কীভাবে কাজ করবে? প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দিতে গেলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের এখানে জনসংখ্যার অনুপাতে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও অনেক কম। ফলে কোনো উন্নয়ন করতে গেলে সরকারকে দুবার ভাবতে হয়। অন্যদিকে আমাদের এখানে জ্বালানি পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। এটা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। একটি নথির জন্য যেখানে একদিনে কাজ হওয়ার কথা, সেখানে এক মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। এসব জটিলতা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তখন ব্যবসায়ীকে ক্ষতি গুনতে হয়। যার ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তখন আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সূচকে আমরা পিছিয়ে পড়ি। এসব সূচকে পিছিয়ে পড়ার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারায়। অন্যদিকে আমাদের এখানে ব্যাংক ঋণের সুদ অনেক বেশি। এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন।’

আরও